অনলাইনে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করার নির্ভরযোগ্য একটি প্রতিষ্ঠান।

গরমে কিভাবে শিশুর যত্ন নিবেন ।

প্রচন্ড গরমে শিশুর যত্ন ।

0

শিশু কিংবা বড় মানুষ গরম সকলের জন্যই খুবই কষ্টকর একটি বিষয়। শিশুদের জন্য তা অসহনীয় একটি ব্যপার। খুব বেশি স্পর্শকাতর বলে শিশুরা বেশি গরম আবহাওয়ায় সহজে মানিয়ে নিতে পারে না।
বেশি গরমে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার মুখোমুখি হয় শিশুরা। তাই মা-বাবার উচিত সকল সময় শিশুদের যত্ন বিষয়ে খুব সচেতন থাকা।
শিশু মানেই যত্নের প্রয়োজন প্রতি সময়ে। শীত কিংবা গ্রীষ্ম ও বর্ষা কাল সব সময়।
তবে অন্যা সময়ের চেয়ে গরমের সময় শিশুদের জন্য খুব বেশি কষ্টকর হয়। এ সময়ে শিশুদের বিভিন্ন ধরনের অসুখ-বিসুখ হতে পারে।
গরমে শিশুর যত্ন নিবেন কীভাবে,চলুন জেনে নেওয়া যাক :
চিকেন পক্স বা জল বসন্ত :
এই সময়টায় শিশুদের জলবসন্ত বেশি হয়ে থাকে। এটা সাধারণত ১-৫ বৎসরের শিশুদের খুব বেশি হয়। তবে চিকেন পক্সের ভ্যাকসিন নেওয়া থাকলে রোগটি হওয়ার সম্ভবনা খুবই কম থানে । এই রোগের সময় শিশুর অবশ্যই বিশেষ যত্ন নিতে হবে। শিশুকে অবশ্যই নরম হালকা সুতি কাপড় পরাতে হবে। তরল বা নরম জাতীয় খাদ্য খাওয়াতে হবে। বেশি করে জল পান করাতে হবে। এর সংগে অবশ্যই মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে।

শিশুদের চামড়ার র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি:
শিশুদের গরমের সময়ে এ সমস্যাটা বেশি দেখা যায়। শিশুদের সাধারণত ঘামাচি ও চামড়ার ওপরে লালচে দানার মতো ফুসকুড়ি হয়ে থাকে। শিশুকে অবশ্যই পরিষ্কার পরিছন্ন রাখতে হবে। নিয়মিত গোসল ও পরিষ্কার জামা-কাপড় পরাতে হবে। ফুসকুড়ির জায়গাগুলোয় শিশুদের পাউডার লাগাতে পারেন। এতে চুলকানি কিছুটা হলেও কমে যাবে।

প্রত্যেকবার কাপড় পরিবর্তন করার সময় শিশুকে নরম ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে বেবি পাউডার লাগিয়ে দিতে হবে। অনেক সময় ডায়াপায়ের কারণেও এসব হতে পারে। তাই খেয়াল রাখতে হবে, ভেজা ডায়াপার যেন শিশুর গায়ে বেশি সময় না থাকে। ডায়াপার নষ্ট হয়ে গেলে সংগে সংগে তা খুলে নতুন ডায়াপার পরিয়ে দিন। তবে গরমের সময় বেশি সময় ডায়াপার না পরিয়ে রাখাই ভালো। অনেক সময় র‌্যাশ বেশি হয়ে গেলে ঘা হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ অবশ্যই নিতে হবে।

শিশুর পেট খারাপ হলে :
শিশুদের গরমের সময় সাধারণত বেশি হয়ে থাকে পেট খারাপ। শিশুর পেট খারাপ হলে তাকে ঘন ঘন খাবার স্যালাইন পান করাতে হবে। সে সংগে জল অথবা ডাবের জল খাওয়াতে হবে। একই সংগে তাকে তরল খাবারও দিতে হবে। যত সময় পর্যন্ত শিশুর পায়খানা স্বাভাবিক না হচ্ছে তত সময় পর্যন্ত এই নিয়ম মেনে চলতে হবে।

লক্ষ্য রাখতে হবে যেন শিশুর পানি শূন্যতা না হয় এবং শিশুর প্রস্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে। এছাড়া শিশুর পায়খানার সংগে যদি রক্ত যায় তবে অবহেলা না করে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। ৬ মাস বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এই সময় কোনো অবস্থায়ই মায়ের দুধ বন্ধ করা যাবে না। সে সংগে জল ও অন্যান্য খাবারও দিতে হবে।

শিশুর ঠান্ডার জনিত সমস্যা :
বেশি গরমে শিশুদের ক্ষেত্রে ঠাণ্ডার সমস্যাটাও বেশি হতে দেখা যায়। গরমের সময় অতিরিক্ত ঘামের ফলে শিশুর ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে। তাই শিশু ঘেমে গেলে সংগে সংগে তার শরীর মুছে দিয়ে কাপড় পরিবর্তন করে দিতে হবে। গরমে শিশুকে অবশ্যই নিয়মিত গোসল করাতে হবে। সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে শরীর ও পরিবেশ। এই সময় ঠাণ্ডা লেগে শিশুর মামস হতে পারে। মামস অনেক সময় কম সময়ে সেরে যায়। কিন্তু বেশি সময় গড়ালে শিশুকে এমএমআর ইঞ্জাকশন দেওয়া হয়। এছাড়া বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরমার্শমতো ব্যবস্থা নিতে হবে।

এছাড়া এই গরমে আপনার আদরের ছোট্ট মা মণির চুলের দিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে। গরমে চুলের গোড়া ঘেমে যায়, সংগে ধুলা-বালির আক্রমণ তো রয়েছেই। তাই রোগ-প্রতিরোধে প্রথমেই শিশুর চুলের প্রতি বিশেষ যত্ন নিন। অনেক সময় অতিরিক্ত গরমে চুলে ও ত্বকে খুশকি বা ঘামাচি বের হয়। তাই গরমের প্রথম দিকেই শিশুর চুল ছেঁটে ছোট করে দিতে হবে। এতে চুলের গোড়া ঘেমে গেলেও তা তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়।

এক বছর বা তার কম বয়সে শিশুদের গরমের সময় মাথা অবশ্যই ন্যাড়া করে দিতে হবে। চুল একান্তই লম্বা রাখতে চাইলে তার প্রতি আরো একটু যত্নশীল হোন। গোসল করার পর চুল ভালোভাবে অবশ্যই মুছে দিন। বড় ফাঁকওয়ালা চিরুনি দিয়ে চুলটা সঠিকভাবে আঁচড়ে দিন। এরপর চুল শুকিয়ে গেলে তা খুব ভালোভাবে বেঁধে দিন। শিশুর চুলে তাদের উপযোগী ও ভালমানের শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। শিশুদের জন্য আলাদা চিরুনি ব্যবহার করা উচিত। সপ্তায় দুই-দিন শিশুর চুলে শ্যাম্পু করা ভালো।

শিশুদের জন্য আরো প্রয়েজনীয় পরামর্শ :

ক. গরমে শিশুকে নিয়মিত গোসল করাতে হবে এবং ধুলা-বালি থেকে সব-সময় দূরে রাখতে হবে।

খ. বাইরে বের হলে শিশুর জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানি সবসময় সংগে রাখতে হবে।

গ. শিশু ঘেমে গেলে ঘাম মুছে দিতে হবে। শরীরের ঘাম শুকিয়ে গেলে শিশুর ঠাণ্ডা লাগতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ঘাম যেন শিশুর গায়ে বসে না যায়।

ঘ. যতটুকু সম্ভব শিশুকে নরম খাবার খাওয়ানোই ভালো।

ঙ. সব সময় শিশুর ত্বক পরিষ্কার রাখতে হবে, যেন র‌্যাশ জাতীয় সমস্যা না হয়।

চ. প্রচুর জল খাওয়াতে হবে, যেন প্রস্রাবের পরিমাণ সব সময় স্বাভাবিক থাকে।

ছ. আপনার সদ্যজাত শিশুটিকে সবসময় ঢেকে রাখুন। যেন শিশুর শরীর সব সময় উষ্ণ থাকে। তবে খুব খেয়াল রাখতে হবে শিশু যেন ঘেমে না যায়।

জ . খুব খেয়াল রাখতে হবে গরমের সময় মশা, মাছি, পিঁপড়া ইত্যাদি পোকামাকড়ের প্রকোপ দেখা যায়। এইসব শিশুর অসুস্থতার জন্য প্রধান কারণ হতে পারে। ঘরকে অবশ্যই পোকা-মাকড় মুক্ত রাখতে হবে।

ডক্টর বার্তা ডেস্ক । 28/04/2020

Leave A Reply

Your email address will not be published.