অনলাইনে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করার নির্ভরযোগ্য একটি প্রতিষ্ঠান।

আপেল যেভাবে ডায়াবেটিসের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে ।

আপেলের গুনাগুন সম্পর্কে জেনে নিন ।

0

আপেলের না শোনে নাই বা আপেল দেখে নাই কিংবা আপেল খায় নাই এমন মানুষের সংখ্যা পৃতিবীতে নেই বললেই চলে । আপেল অত্যান্ত সুস্বাদু ও উপকারী ফল।
আসুন জেনে নেওয়া যাক আলের কিছু গুনের কথা :

আপেল ডায়াবেটিসের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে । যে সকল মানুষ প্রতিদিন আপেল খায় তাদেও ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভবনা ২৮% কমে যায়। তার অন্যতম কারণ হলো আপেলের মধ্যে যে ফাইবার থাকে,তা রক্তে শর্করার পরিমান সঠিক রাখতে সহায়তা করে । ফলে আপেল খেলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায় ।

যুক্তরাষ্ট্রের এ্যাসোসিয়েশন ফর ক্যান্সার রিচার্চ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আপেল খেলে অগ্নাশয় ক্যান্সারের সম্ভবনা শতকরা প্রায় ২৩ ভাগ হারে কমে যায় । কারণ আপেলের মধ্যে প্রচুর পরিমানে ফ্ল্যাভোনল থাকে । এছাড়া কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা আপেলের মধ্যে এমন কিছু উপাদানের সন্ধান পেয়েছে,যা ট্রিটারপেনয়েডস নামে পরিচিত । এই উপাদানটি লিভার,স্তন এবং কোলোনের মধ্যে ক্যান্সারের কোষ বেড়ে উঠতে বাঁধা দিয়ে থাকে । জাতীয় ক্যান্সার ইন্সটিটিউট ইন দ্যা ইউ এস এর গবেষণা থেকে জানা যায় যে, আপেলের মধ্যে যে পরিমান ফাইবার থাকে,তা মলাশয়ের ক্যান্সার রোধ করতে সাহায্য করে।

আপেল খেলে দাঁতের খুবই উপকার হয় । তার অন্যতম কারণ,আপেলে কামড় দিয়ে যখন আমরা চিবাতে আরম্ভ করি,তখন আমাদের মুখের ভীতর লালার সৃষ্টি হয় । এই পদ্ধতিতে দাঁতের কোণা থেকে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া বেরিয়ে আসে । ফলে সেই ব্যাকটেরিয়া আর দাঁতের কোন ক্ষতি করতে পারে না । তাই বলে শুধু আপেল খেয়ে দাঁতের যত্ন নিলে চলবে না । পেষ্ট ব্রাশ ব্যবহার করে নিয়মিত খাওয়ার পর দাঁতের যত্ন নিতে হবে । বেশি সমস্যা হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে ।

রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে আপেল । আপেলের মধ্যে যে ফাইবার থাকে ,তা অন্ত্রের ফ্যাট কমাতে সহায়তা করে । ফলে কোলেস্টেরলের মাত্রা সঠিক থাকে । আর একবার শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে আরম্ভ করলে হার্টের ক্ষতি হওয়ার আশংকা কমে যায় ।

আপেল হার্ট ভাল রাখে । আপেলের মধ্যে যে ফাইবার থাকে ,তা কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে । এছড়াও আপেলের খোসার মধ্যে যে ফেনলিক উপাদান থাকে,তা রক্তনালিকার থেকে কোলেস্টেরল দূর করতে সহায়তা করে থাকে । ফলে হার্টে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকতে সহায়তা করে। এর ফলে হ্নদযন্ত্রের ক্ষতি হওয়ার আশংকা কমে যায় ।

গলস্টোন সারাতে সহায়তা করে আপেল। পিত্তথলির মধ্যে অতি পরিমানে কোলেস্টেরল জমে গেলে তখন গলস্টোন হয় । গলস্টোন কমানোর জন্য ডাক্তাররা সব সময় ফাইবার সমৃদ্ধ ফল বা খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন । একই সংগে গলস্টোন সারাতে ওজন এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর উপদেশ দেওয়া হয় । এই সকল কাজ যাতে সঠিকভাবে হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে আপেলের কোন বিকল্প ফল নাই ।

ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে আপেলের জুড়ি মেলা ভার । কোন কিছু খেলেই বাথরুমে যেতে হয় ? আবার এমনও কি হয় যখন তখন বাথরুমে গেলেই তখন দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হয় । অথচ কিছুতেই পেট পরিস্কার হয় না । এসব সমস্যার একটাই চিকিৎসা তা হলো আপেল । যা প্রয়োজন অনুযায়ী বর্জ থেকে অতিরিক্ত জল টেনে রাখতে পারে । ফলে একদিকে যেমন অতিরিক্ত বার বাথরুমে যেতে হয় না, তেমনি হজম শক্তি বৃদ্ধি করে,সেই সংগে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে থাকে আপেল ।

ওজন কমাতে সহায়তা করে আপেল । কত মানষই তো আছেন ,যারা অতিরিক্ত ওজনের কারণে জর্জরিত । আবার শুধুমাত্র এই কারণে নানারকম রোগও শরীরে বাসা বাঁধতে আরম্ভ করে । এমনকি,ডায়াবেটিস,হারের রোগ কত কিছুই না হয় । তাই সমস্ত রোগকে যদি বিদায় জানাতে চান,তাহলে নিয়ম করে আপেল খান । এই ফলটিতে উপস্থিত ফাইবার আপনার পেট ভরাতে সহায়তা করে কোনও ক্যালরি ছাড়াই । এর ফলে আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে । তাই নিয়ম করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিয়মিত আপেল খান ।

লিভার সুস্থ্য রাখতে আপেলের জুরি নাই । আমরা যা কিছু খাই,তার মধ্যে কিছু না কিছু ক্ষতিকর পদার্থ থাকে । ফলে আমাদের লিভারের ক্ষতি হতে আরম্ভ করে । যে কারণে লিভারকে সুস্থ্য রাখাটা খুবই চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় । তবে লিভারকে ১০০ ভাগ সুস্থ্য রাখতে পারে আপেল । এটি খুব সহজেই লিভারে জমা হওয়া ক্ষতিকারক উপাদানদের বেড়িয়ে যেতে সহায়তা করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে আপেল । আপেলের মধ্যে এক ধরনের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে,যা কুয়েরসেটিন নামে পরিচিত । এটি আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে এবং আমাদের শরীর ভাল রাখতে সহায়তা করে।

ডাক্তার বার্তা স্বাস্থ্য ডেস্ক ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.