অনলাইনে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করার নির্ভরযোগ্য একটি প্রতিষ্ঠান।

জেনে নিন বেলের ঔষধি গুণাগুণ

বেলের বহুমুখি ঐষুধি গুণাগুণ

0

বাংলাদেশে বেল গাছ একটি পরিচিত গাছ । এ গাছের পাতা,ফল, ও চালের আছে বহু ঔষধি গুণ । বেলের আসল জন্ম ভারতে । এটি লেবু পরিবারের একজন সদস্য ।সংস্কৃতি নাম বিল্ব । এর বৈজ্ঞানিক নাম Aegle Marmelors Correa ।

শীতের শেষে আবার গ্রীষ্মে আগমনের অপেক্ষায় ,বাড়ছে তাপমাত্রা আরে সেই সংগেই নানা ধরনের অসুখ-বিসুখেরও উপসর্গ দেখা দেয়। গরমে ক্লান্তি দূর করতে কিংবা নানা রোগের উপসম করতে বেলের জুর মেলা ভার । বেল ফল কাঁচা অবস্থায় সবুজ বর্ণের হয়ে থাকে আর পাঁকলে হলুদ বর্ণ ধারণ করে । কচি বেল খাওয়াই বেশি ভাল । তবে পাঁকা বেল খুবই উপকারী ।

প্রতি ১০০ গ্রাম বেলের শাঁসে পাওয়া যায় পানিঃ৫৪.৯৬-৬১.৫ গ্রাম,প্রোটিনঃ১.৮-২.৬২গ্রাম,স্নেহ পদার্থঃ ০.২-০.৩৯গ্রাম,শর্করাঃ২৮.১১-৩১-৮গ্রাম,ক্যারোটিন ৫৫ মিলি গ্রাম,থায়মিন০.১৩ মিলি গ্রাম,রিবোফ্লেবিন ১.১৯ মিলি গ্রাম,এসকরবিক এসিডঃ ৮-৬০ মিলি গ্রাম, নিয়সিনঃ১.১ মিলি গ্রাম,টারটারিক এসিডঃ২.১১ মিলি গ্রাম ।

বেলের রয়েছে বহুমূখি গুণাগুণঃ

পাকস্থরীর আলসার,পাইলস রোগে এটি শক্তিবর্ধক হিসেবে কাজ করে থাকে । অন্ত্রের কৃমিসহ অন্যান্য জীবানু ধ্বংস করে ডায়রিয়া ও আমাশয় প্রতিরোধ করে থাকে বেল ।

বেলের ল্যাক্সিটেভ গুণ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে ও আমাশয় রোগে খুবই কার্যকরী ভূমিকা পাল করে । হজমেও বেশ উপকারী । বেলে ন্যাচারাল ডাই ইউরেটিক আছে,যা শরীরের জল জমা প্রতিরোধ করে থাকে । বেলের পাতার রস মধুর সাথে মিশিয়ে পান করলে চোখের ছানি কমে যায়। এছাড়াভিটামিন-এ মিউকাস মেমব্রেনের গঠন এবং চামরার ঔজ্জ্বল্যতা বৃদ্ধি করে থাকে । ত্বককে সূর্যরম্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে থাকে বেলের শাঁস ও ত্বকের স্বভাবিক রং বজায় রাখতে সাহায্য করে । বেলের থায়ামিন ওরেবাফ্লোবিন হার্ট এবং লিবার ভালো রাখতে সাহায্য করে । বেল থেকে পাওয়া বেটাক্যারোটিন রঞ্জক মানবদেহের টিউমার কোষের বৃদ্ধি রোধ করে । বিশেষ করে মহিলারা নিয়মিত বেল বা বেলের শরবত খেলে স্তন ক্যান্সার ও জরায়ু ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে । প্রস্টোজেন হরমোন লেভেল বাড়িয়ে মহিলাদের ইনফাটিলিটির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে ।  এছাড়া প্রসব-পরবর্তী  ডিপ্রেশন কমাতেও বেল খুব কার্যকরী । বেলের ভিটামিন-সি স্কার্ভি প্রতিরোধ করে । ভিটামিন-সি হলো শক্তিশালী প্রাকৃতিক অ্যান্টঅক্সডেন্ট,যা মানবদেহের বিভিন্ন সংক্রমণ রোধ করে । জন্ডিস এর সমস্যাই পাকা বেল গোলমরিচের সংগে সরবত করে খেলে উপকার পাওয়া যায়। সর্দি হলে বেরপাতার রস এক চামচ খেলে সর্দি ও জ্বরভাব কেটে যায় । বেলপাতার রস টান্ডা ও ক্রনিক কফে বেশ উপকারী । জয়েন্টের ব্যথা ও উপশম করে বেল । বেলপাতার রস মধু গোলমরিচের গুড়া মিশিয়ে খেলে জন্ডিস নিরাময় হয় । বেল বেটাক্যারোটিনের ভালো উৎস,যা থেকে ভিটামিন-এ তৈরি হয় । ভিটামিন-এ চোখের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুরোকে পুস্টি জোগায় । যারা নিয়মিত বেল খায় ,তাদের চোখের বিভিন্ন অসুখ হওয়ার প্রবণতা তুরনামূলক কমে যায় । তবে নিয়মিত পাকা বেল খাওয়া উচিত নয় । প্রতিদিন পাকা বেল স্বাভাবিক স্থিতিস্থাপকতা কমে যায় এবং পেট ফাঁপার সমস্যা হতে পারে । পাকা বেল একবারে বেশি পরিমানে খাওয়া উচিত নয় ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.