অনলাইনে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করার নির্ভরযোগ্য একটি প্রতিষ্ঠান।

জন্ডিস থেকে বাঁচতে ফল !

জন্ডিস থেকে বাঁচতে ফলের গুণাগুণ

0

জন্ডিস থেকে বাঁচতে ফল ফলই যখন ভরসা । জন্ডিস হলে না জানি কত কথা ভেবে ফেলে রোগী থেকে রোগীর পরিবার। এবার তাদের নির্দিষ্ট কিছু ধারনঅকে পাল্টে দিতে পারে কয়েকটি অজানা তথ্য । প্রথমত জন্ডিস কোনও রোগ নয়,রোগের লক্ষণ মাত্র । জন্ডিসে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায়। আর এর ফলে ত্বক,চোখের সাদা অংশ এবং অন্যান্য মিউকাস ঝিল্লি হলুদ হয়ে যায় । মানব দেহে রক্তের লোহিত কণিকাগুলো স্বাভাবিক নিয়মেই একটা সময়ে ভেঙ্গে গিয়ে বিলিরুবিন তৈরি করে । যা পরবর্তী সময়ে লিভারে প্রক্রিয়াজাত হয়ে ওিরসের সংগে মিশে পরিপাকতন্ত্রে প্রবেশ করে । এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া কোনও কারণে ব্যাহত হলে জন্ডিস দেখা দেয় ।

এক্ষেত্রে আরও একটা কথা বলে রাখা ভালো লিভারের রোগই জন্ডিসের প্রধান কারণ । ভারত সহ প্রায় সারা বিশ্বেই জন্ডিসের প্রধান কারণ হেপাটাইটিসের ভাইরাস । তবে এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে চিন্তার কোনও কারণ নেই । এর উপসম পেতে আপনার হাতেই রয়েছে সেই উপায় । ফলই বাতলে দেবে জন্ডিসের নিরাময় পদ্ধতি । প্রধানত জন্ডিসের লক্ষণ এবং উপসর্গ বলতে চোখ এবং প্রস্বাবের রং হলুদ হয়ে যাওয়া,শারীরিক দূর্বলতা,ক্ষুধামন্দা,জ্বর জ্বর অনুভূতি কিংবা কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা বমি বমি ভাব চুলকানি ইত্যাদি ।

বিভিন্ন চিকিৎসকদের সংগে আলোচনা করে জানা গিয়েছে, জন্ডিস হলে কি কি প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় থাকা আবশ্যক । এক্ষেত্রে তারা জানিয়েছেন রোগীকে প্রতিদিন অন্তত আট গ্লাস করে জল পান করতে হবে । চা পান করতে চাইলে হার্বাল চা রোগীর জন্য চলতে পারে । তৈরি করে রাখা চা একবারেই রোগীর চলবে না । তালিকা থেকে দুগ্ধজাত খাবার বাদ রাখাই এই সময় শ্রেয় । এর পাশাপাশি এনজাইম সমৃদ্ধ ফল খাওয়া বিশেষ প্রয়োজন । যেমন পেঁপে,আম ইত্যাদি ধরনের ফল । প্রতিদিন অন্তত দুবাটি সবজি এবং দুবাটি ফল খাওয়া প্রয়োজন । হাই ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যেমন ওটমিল আমন্ড ইত্যাদি ও খাওয়ানো যেতে পারে রোগীকে ।

এছাড়া খাদ্য তালিকায় আরও যা যা থাকলেও কোনও অসুবিধা নাই সেগুলি হলো জল,অর্থাৎ পরিমিত জল পান করা । অন্তত চার লিটার জল পান করতেই হবে । যার ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত টক্সিন বেরিয়ে যাবে । শুধু তাই নয় লিভারের কর্মকান্ডও ঠিক থাকবে । আর এই সবের কারণে রোগীর অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে । এরপরই আসতে পারে কফি ।

তবে এক্ষেত্রে কফি বা কোক এড়িয়ে চলাটাই বেশি ভালো । সংগে দুধ বা দুধের তৈরি যে কোনও খাবার এড়িয়ে চলাটাও দরকার এমনকি এই সময় হার্বাল, দুধও খাবেন না রোগী ।

দ্রুত খাবার হজম করাতে পারবে এই রকম উৎসেচক সমৃদ্ধ খাবার তালিকায় রাখুন । যেমন মধু কমলা লেবু,আনারস,পেঁপে,আম ইত্যাদি। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার ফল,সবজি ইত্যাদি তো খাবেনই । তাছাড়াও বাদাম,শস্য দানা যেমন ওটমিল,আমন্ড রাইস ইত্যাদিও খাদ্য তালিকায় রাখা প্রয়োজন । অতিরিক্ত আয়রন লিভারের পক্ষে ক্ষতিকারক । তাই এই সময় রোগীর সব খাওয়া প্রয়োজন । মাছ মাংসের ক্ষেত্রে রোগী ছোট মাছ বা মুরগীর মাংস খেতে পারবে বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা । তবে স্যাচুরেটেড ফ্যাট এড়িয়ে চলতে হবে । রাস্তার ধারে বিক্রি হওয়া ফলের রস বিশেষত আখের রস একবারেই খাওয়া যাবে না ।

শুধু যে রোগীর সময় এত নিয়ম মেনে চলতে হবে তা নয় । জন্ডিস সেরে যাওয়ার পরও মেনে চলতে হয় হাজারো নিয়ম। অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা থেকে শুর করে প্রতিদিন চার লিটার জল খাওয়া সবই পড়ে এর মধ্যে । জন্ডিসের পর ল্যাকটোজ জাতীয় খাদ্য কম খাওয়া উচিৎ। সংগে লবণ যতটা সম্ভব কম খাওয়া প্রয়োজন । তবে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় লেবু রাখা যেতেই পারে ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.