অনলাইনে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করার নির্ভরযোগ্য একটি প্রতিষ্ঠান।

করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে আমাদের করণীয় । ড. মো. আনোয়ার খসরু পারভেজ ।

নিরাপদ থাকি করোনা থেকে বাঁচি’

0

এ কথা স্বীকৃত যে, করোনা জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করেই আগামী দিনগুলোতে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে। সেজন্য আমাদের কিছু অভ্যাস বদলাতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো নিজের ভালো বুঝতে হবে। আর আমরা যদি নিজের ভালো না বুঝে যেখানে-সেখানে অপ্রয়োজনে চলাফেরা করি, জনসমাগম এড়িয়ে না চলি, তাহলে নিজে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারি, তেমনই নিজের পরিবারের সদস্যদের জীবনও হুমকির মধ্যে ফেলতে পারি। এজন্য কিছু নিয়ম মেনে চললেই এই অবস্থায় আমাদের টিকে থাকা সম্ভব। তাই মহামারী করোনা ভাইরাস হতে নিজের জীবনকে রক্ষা করতে এবং জীবিকা চালিয়ে নিতে সর্বসাধারণের উদ্দেশ্যে কিছু পরামর্শ প্রদান করেছেন ড. মো. আনোয়ার খসরু পারভেজ, অধ্যাপক, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

বর্তমানে তিনি প্রেষণে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংক্রামক অনুজীব নিয়ে গবেষণা তাঁর মূল ক্ষেত্র। কোভিড-১৯ যা করোনা নামে সমধিক পরিচিত, এ অনুজীব নিয়ে তিনি বর্তমানে গবেষণা করছেন। তাঁর কিছু মূল্যবান পরামর্শ আগামী দিনগুলোতে আমাদের কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা করতে পারে। আসুন, আমরা সকলেই তাঁর মূল্যবান পরামর্শগুলো অবশ্যই মেনে চলার চেষ্টা করি।

করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে আমাদের করণীয়

ক) অভ্যাস : মাস্ক পরার অভ্যাস গড়ি। মাস্ক বা মুখোশটি ছাড়া বাইরে না যাই, মুখোশটি মুখেই রাখি আর পরিবারের সকলে একই মাস্ক বা মুখোশ ব্যবহার না করি। নিয়মিত সাবান দিয়ে ভালো করে হাত-মুখ ধুই অথবা এ্যালকোহল-বেজড হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করি, গোসল না করে বয়স্ক মুরুব্বীদের কাছে না যাই, হাত না ধুয়েই খাওয়া শুরু না করি। বাজে অভ্যাসগুলো ত্যাগ করতে হবে। কথায় কথায় মুখে আঙ্গুল দেওয়া, কলমের মুখ কামড়ানো, আঙ্গুল জিহ্বায় লাগিয়ে কাগজ উল্টানো, সিগারেট অথবা বিড়ি খাওয়া, একটা সিগারেটের আগুন দিয়ে আরেকটা ধরানো, ক্রিকেট খেলায় বল-এ থুতুু লাগানো, থুতুু দিয়ে টাকা গোনা ইত্যাদি। যুগ যুগ ধরে চলে আসা এসব বাজে অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। অপরিষ্কার হাত মুখ, নাক ও চোখে না দেই।
কোলাকুলি ও হ্যান্ডসেক না করি।

কাশি বা হাঁচি দেওয়ার সময় কনুই (ফুলহাতা জামা পরিহিত হলে ভালো হয়, তবে সুযোগ থাকলে অবশ্যই পরিষ্কার করতে হবে) অথবা টিস্যু দিয়ে মুখ ঢেকে রাখি (টিস্যু ব্যবহারের পর সম্ভব হলে ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিনে ফেলতে হবে)।

শারীরিক দূরত্বের নিয়মাবলি মেনে অন্যের থেকে অন্তত ৩ ফুট (১ মিটার)/ তিন হাত দূরে দাঁড়াই, অন্যের গায়ে হাত দিয়ে কথা না বলি।
সিনেমা হল, শপিং মল, বিয়ে বা অন্যান্য অনুরূপ অনুষ্ঠান, অপ্রয়োজনীয় সভা এড়িয়ে চলি। প্রয়োজন ছাড়া বাজারে বা মার্কেটে বা কোনো ভিড়ের জায়গায় না যাই। সম্ভব হলে পার্ক, পার্টি ইত্যাদিতে না যাই। বাজারে গেলে তাড়াহুড়া না করি, দুরত্ব বজায় রাখি। সর্বদা সামাজিক দূরত্বের কথা মাথায় রাখি। বাইরের চা বা খাবার না খাই। পারতপক্ষে বাইরের তৈরি খাবার বাসায় না আনি। অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ না করি।

অফিসের কাজে আগের মতো পাশাপাশি না বসে যতোটা পারা যায় দূরে দূরে বসি। পাবলিক টয়লেট বা কমন টয়লেট ব্যবহারে সতর্ক হই। বাইরে থেকে এসে জুতো ঘরের ভেতরে না এনে বাইরে রেখে দেই। কাপড় রোদে দেই, পারলে সাবান জলে ধুয়ে নেই। সকল প্রকার খাদ্য-দ্রব্যাদি যেমন সবজি, মাংস, ডিম কল ছেড়ে দিয়ে চলমান পানিতে ভালো করে ধুয়ে নেই ।

বই, খাতা কলম, পোশাক যাই কিনি তা সম্ভব হলে রোদে রেখে দেই, একদিন পরে ব্যবহার করি। সেলুনে বা বিউটি সেলুন পার্লারে না যাওয়ার চেষ্টা করি, আর গেলে খুব যত্নশীল হই।
বাইরে বেরোনোর সময় বেল্ট, রিং বা আংটি, ঘড়ি ইত্যাদি না পড়ি। মোবাইলে সময় দেখা যাবে। হাতের রুমাল না নিয়ে, স্যানিটাইজার নেই । আমাদের চারপাশে কোনো গোলমাল হতে না দেই।

খ) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো : নিয়ম মাফিক ঘুমাতে হবে, রাত জাগা খুব খারাপ শরীর ও ইমিউন সিস্টেমের জন্য। তাই প্রতিদিন কমপক্ষে ৬-৮ ঘন্টা ঘুমাতে হবে।
প্রতিদিন ব্যায়াম করতে হবে অন্তত ১৫-৩০ মিনিট। মাসল এক্টিভিটি বাড়াতে হবে। দিনে ২০-২৫ বার ১৫-২০ সেকেন্ট নিশ্বাস বন্ধ রেখে শ্বাসযন্ত্রের ব্যায়াম করতে হবে।
প্রায়ই রোদে ঘুরতে হবে বাড়ির আঙিনায় বা ছাদে। রোদ দরকার, ভিটামিন ডি লাগবেই।
ভিটামিন সি বা টক যুক্ত ফল, যেমন – কমলা, লেবু ইত্যাদি খেতে হবে। এছাড়াও সিজনাল ফল খেতে হবে। প্রতিদিন সকালে লেবু সেদ্ধ গরম পানি খান।
প্রচুর পানি খেতে হবে। প্রযোজন মতো মাছ, মাংস, শাক-সবজি খেতে হবে। ‘অসহায়দের সহায় হউন’

লেখক : ড. মো. আনোয়ার খসরু পারভেজ, অধ্যাপক, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে তিনি প্রেষণে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ।

প্রচারে : পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজাপুর, পাবনা-৬৬০০

Leave A Reply

Your email address will not be published.