অনলাইনে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করার নির্ভরযোগ্য একটি প্রতিষ্ঠান।

ইফতারে শসা খাবেন কেন ?

ইফতারে কেন শসা খাবেন ।

0

ইফতারে শসা খাওয়া খুবই ভাল । বাইরে বের হলেই প্রচন্ড গরম । গরমে শরীর থেকে যে পরিমান ঘাম বের হয়ে যায় তা পূরণের জন্য শসার জুড়ি নাই । ইফতারে শসা সালাদের মধ্যে,ডিটক্স ওয়াটারের মধ্যে স্মুদি বানিয়ে বা দইয়ের সংগে মিশিয়ে রায়তা তৈরি করেও খেতে পারেন । এতে গরমে শরীর ভাল থাকবে । তাই ইফতারে খেতে পারেন শসা ।

শসা হচ্ছেে একটি লো ক্যালরি বা খুব কম ক্যালরিযুক্ত একটি খাবার । শসার মধ্যে পানির পরিমান অনেক । ১০০ গ্রাম শসাতে পানির পরিমান ৯৪.৯ গ্রাম এবং ক্যালরি ২২ কিলো ক্যালরি এছাড়া শসা একটি ভাল মানের এন্টিঅক্সডেন্ট জাতীয় খাবার । শসাতে কিছু পরিমান ভিটামিন,মিনারেলস এবং আঁশ থাকে ।

শসার মধ্যে বিটামিন কে,ভিটামিন সি,ম্যাগনেসিয়াম,ফসফরাস,রাইবোফ্লভিন,বি সিক্স,ফোলেট,আয়রন,ক্যালসিয়াম,জিঙ্ক প্রভৃতি অনেক পরিমানে থাকে । শরীরে পানির পরিমান বজায় রাখতেও শসার তুলনা হয় না ।

শসার শত গুনের মধ্যেে উল্লেখযোগ্য ১৬ টি গুনের কথা তুলে ধরেছেন খাদ্য বিশেষজ্ঞ-ফুড প্লানিং অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিটের সহযোগী গবেষণা পরিচালক মোস্তফা ফারুক আল বান্না ।

আসুন জেনে নেই কেন ইফতারে শসা খাবেন ?

১.প্রতিদিন আমাদের শরীরে যেসব ভিটামিনের প্রয়োজন,তার বেশির ভাগই শসার মধ্যে বিদ্যমান । শসা ভিটামিন এ,বি ও সি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় । সবুজ শাক ও গাজরের সংগে শসা পিষে রস করে খেলে এই তিন ধরনের ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ হবে ।

২.আপনি এমন কোথাও আছেন যেখানে পানি নেই । কিন্তু হাতের কাছে শসা আছে । বড়োসড়ো একটি শসা চিবিয়ে খেয়ে নিন । আপনার পিপাসা মিটে যাবে । আপনি হয়ে উঠবেন সতেজ চলমান । কারণ শসার ৯০ শতাংশই পানি ।

৩.কখনও কখনও আপনি শরীরের ভীতরে-বাইরে প্রচন্ড উত্তাপ অনুভব করেন । দেহে জ্বালাপোড়া শুরু হয় । এ অবস্থায় একটি শসা খেয়ে নিন বেশ আরাম পাবেন ।

৪.সূর্যের তাপে ত্বকে জ্বালা অনুভব করলে শসা কেটে ত্বকে ঘঁষে নিন । নিশ্চিত ফল পাবেন ।

৫.শসার মধ্যে যে পানি থাকে তা আমাদের দেহের বর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ অপসারনে অনেকটা অদৃশ্য ঝড়-র মতো কাজ করে । নিয়মিত শসা খেলে কিডনিতে সৃস্ট পাথরও গলে যায় ।

৬.শসায় উচ্চমাত্রায় পটাশিয়াম ম্যাগনেশিয়াম ও সিলিকন আছে যা ত্বকের পরিচর্যায় বিশেষ ভূমিকা রাখে । এজন্য ত্বকের পরিচর্যায় গোসলের সময় অনেকে শসা ব্যবহার করে ।

৭.শসায় উচ্চমাত্রায় পানি ও নিচুমাত্রায় ক্যালরিযুক্ত উপাদান রয়েছে । ফলে যারা ওজন কমাতে চান তাদের জন্য শসা আদর্শ টনিক হিসাবে কাজ করে। যারা ওজন কমাতে চান তারা স্যুপ,ওস্যালাডে বেশি বেশি শসা ব্যবহার করবেন । কাঁচা শসা চিবিয়ে খেলে তা হজমে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে । নিয়মিন শসা খেলে দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় ।

৮.সৌন্দয্য চর্চার অংশ হিসেবে অনেকে শসা গোল করে কেটে চোখের পাতায় বসিয়ে রাখেন । এতে চোখের পাতায় জমে থাকা ময়লা যেমন অপসারিত হয় তেমনি চোখের জ্যোতি বাড়াতেও কাজ করে ।

৯.চোখের প্রদাহ প্রতিরোধক উপাদান প্রচুর পরিমানে থাকায় ছানি পড়া,জরায়ু,স্তনও মূত্রগ্রন্থিসহ বিভিন্ন স্থানে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কমাতে শসা কাজ করে থাকে ।

১০.শসায় সিকোইসোলারিসিবেসিনোল,ল্যারিসিবোসিনোল ও পিনোবোসিনোল-এ তিনটি আয়ুব্বেদ উপাদান আছে বলে বিজ্ঞানীদের অভিমত ।

১১.ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি দেয়,কোলেস্টরল কমায়,রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখে শসা । তাই বেশি বেশি শসা খাওয়া ভাল ।

১২.দুর্গন্ধযুক্ত সংক্রান আক্রান্ত মাড়ির চিকিৎসায় শসা দারুণ কাজ করে । গোল করে কাটা স্লাইস শসা জিহ্বার ওপরে রেখে সেটি টাকরার সংগে চাপ দিয়ে আধ মিনিট রাখুন । শসার সাইটোকোমিক্যাল এর মধ্যে বিশেষ বিক্রিয়া ঘটিয়ে আপনার মূখের জীবনূ ধবংস করবে । সজীব হয়ে উঠবে আপনার নিঃশ্বাস ।

১৩.মসার মধ্যে যে খনিজ সিলিকা থাকে আমাদের চুল ও নখকে সতেজ ও শক্তিশালী করে তোলে । এছাড়া শসার সালফার ও সিলিকা চুলের বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে থাকে ।

১৪.শসায় প্রচুর পরিমানে সিলিকা আছে । গাজরের রসের সংগে শসার রস মিশিয়ে খেলে দেহের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নেমে আসে । এতে গেঁটেবাতের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় ।

১৫.ভোরে ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকের মাথা ধরে । শরীর ম্যাজ ম্যাজ করে । শসায় প্রচুর পরিমানে ভিটামিন বি ও সুগার আছে । তাই ঘুমাতে যাওয়ার আগে কয়েক টুকরো শসা খেয়ে নিলে ভোরে ঘুম থেকে উঠার পর এ সমস্যা থাকবে না ।

১৬.শরীরকে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা ঠিক রাখে শসা । এতে কিডনি থাকে সুস্থ্য ও সতেজ । তাই আমাদের উচিত প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় শসাকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা ।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.