অনলাইনে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করার নির্ভরযোগ্য একটি প্রতিষ্ঠান।

করোনা ভাইরাস, আইন কি বলে ? গৌতম কুমার বিশ্বাস ।

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস, আইন ।

0

সকলের অবগতির জন্যে,,,,,,,,, করোনা ভাইরাস, আইন কি বলে ? আপনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার মাঝেই সকলের নিশ্চিত সুস্থতা অন্তর্নিহিত। সংক্রামক ব্যাধি বিষয়ে ১৮৬০ সনে প্রণীত দণ্ডবিধির ২৬৯, ২৭০ ও ২৭১ ধারার বিধান থাকার পাশাপাশি আরেকটি স্বতন্ত্র আইন আছে। আইনটি হচ্ছে “সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮” ( ২০১৮ সনের ৬১ নং আইন )। এটি একটি বিশেষ আইন। এই আইনের ৩ ধারা মোতাবেক “আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে”। ধারা ৪ এ ২৩ টি রোগকে সংক্রামক রোগ হিসেবে দেখানো হলেও ধারা ৪(ভ) এর বিধান অনুয়ায়ী সরকারি গ্যাজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা ঘোষিত কোনো নবোদ্ভূত বা পুনরুদ্ভূত (Emerging or Reemerging) রোগসমূহকে সংক্রামক রোগ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে। এই আইনের ১৪ ধারা অনুয়ায়ী আক্রান্ত ব্যক্তিকে জনবিচ্ছিন্ন করার বিধানের বর্ণনা দেয়া আছে। ১৪ ধারাটি নিম্নরূপ – ” যদি ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর এইরূপ বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, কোনো সংক্রমিত ব্যক্তিকে বিচ্ছিন্ন করা না হইলে তাহার মাধ্যমে অন্য কোনো ব্যক্তি সংক্রমিত হইতে পারেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তিকে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, সাময়িকভাবে অন্য কোনো স্থানে স্থানান্তর বা জনবিচ্ছিন্ন করা যাইবে।” ২৪ ধারায় রোগের বিস্তার ঘটানো এবং তথ্য গোপন করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ২৪(২) ধারা অনুযায়ী যার শাস্তি অনূর্ধ্ব ৬ (ছয়) মাস কারাদণ্ড, বা অনূর্ধ্ব ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ড। অর্থ্যাৎ আপনি নিজে যদি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে থাকেন এবং জ্ঞাতসারে যে তথ্য গোপন করে অন্যের সাথে মেলামেশা করেন এবং এভাবে রোগের বিস্তার ঘটাতে সহায়তা করেন তবে আপনি ২৪(২) অনুয়ায়ী সাজাযোগ্য অপরাধ করলেন। কেউ যদি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাজে বাধা প্রদান করেন বা নির্দেশ পালনে অসম্মতি জ্ঞাপন করেন তা হলে সে ধারা ২৫(২) অনুয়ায়ী অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে, বা অনূর্ধ্ব ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। যদি কোন ব্যক্তি সংক্রামক রোগ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা ভুল তথ্য প্রদান করেন তা হলে ২৬(২) ধারা অনুযায়ী তিনি অনূর্ধ্ব ২ (দুই) মাস কারাদণ্ডে, বা অনূর্ধ্ব ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। তবে এই আইনের ২৮ ধারা অনুয়ায়ী এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধসমূহ অ-আমলযোগ্য (Non-cognizable), জামিনযোগ্য (Bailable) এবং আপোষযোগ্য (Compoundable)। এখন যারা হোম কোয়ারান্টাইনে বা আইসোলেসনে থেকে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বা হসপিটাল থেকে পালাচ্ছেন, বাড়ি বাড়ি যেয়ে মোলাকাত করছেন তারা এই আইন লঙ্ঘন করার ফলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করছেন। মনে রাখা জরুরি – আপনি যদি হোম কোয়ারান্টাইন আদেশ লঙ্ঘন করেন তবে আপনার কোয়ারান্টাইন টা জেলখানায় হতে পারে। আসুন, সুস্থ ও মানব কল্যাণবান্ধব দেশ গড়ায় সহযোগিতা করি।

গৌতম কুমার বিশ্বাস -অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পাবনা (পদন্নোতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার )

সূত্র : অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পাবনা (পদন্নোতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার ) গৌতম কুমার বিশ্বাসের ফেসবুকের আইডি থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে ।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.