অনলাইনে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করার নির্ভরযোগ্য একটি প্রতিষ্ঠান।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেঙ্গু রোগের কারণ, প্রতিরোধ এবং সচেতনতা বিষয়ক সেমিনার ।

ডেঙ্গু রোগের কারণ, প্রতিরোধ এবং সচেতনতা

0

ডক্টর বার্তা ডেস্ক : ডেঙ্গুরোগের প্রতিরোধে জনগণের সচেতনার উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে সেমিনারে। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘ডেঙ্গু রোগের কারণ, প্রতিরোধ এবং সচেতনতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা ডেঙ্গু নিয়ে আতংকিত না হয়ে সচেতন হওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান। বিশিষ্ট অনুজীব বিজ্ঞানী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোঃ আনোয়ার খসরু পারভেজ প্রজেক্টরের মাধ্যমে ডেঙ্গু সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। স্থাপত্য বিভাগের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনারে উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকর্তা বক্তব্য দেন।

সেমিনারের আলোচক প্রফেসর ড. মোঃ আনোয়ার খসরু পারভেজ বলেন, ১৯৬৬ সালে প্রথম আমাদের দেশে ডেঙ্গু বিষয়ে জানা যায়। ১৯৯৯ সালের পর থেকে এর প্রাদুর্ভাব ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবছরই ডেঙ্গু রোগি বাড়ছে। পৃথিবীর ১০০টি দেশে ডেঙ্গু রোগ আছে। এই রোগে পৃথিবীতে প্রতিবছর ২২ হাজার মানুষ মারা যায়। একজন মানুষ জীবনে চারবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারে। প্রথমবার খুব ভয়াবহ না হলেও দ্বিতীয়বার কেউ যদি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন তাহলে সেটা খুবই উদ্বেগের বিষয়। গর্ভবতী মায়ের থেকে পেটে থাকা শিশুর শরীরে ডেঙ্গু ছড়াতে পারে তবে এ রোগ ছোঁয়চে নয়। চলতি বছরে ডেঙ্গুর ভয়াবহতার কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরের অক্টোবর মাসে এডিস মশা যে ডিম পেরেছিল গত ফেব্রুয়ারির বর্ষায় প্রাণ পায় এডিস মশা। এডিস মশার ডিম সাতমাস পর্যন্ত পানি ছাড়াই বেঁচে থাকতে পারে। চলতি বর্ষায় এডিস মশা ভয়াবহ আকারে বেড়ে গেছে। কারণ এডিস মশা মারার সঠিক পদ্ধতি ও কীটনাশক সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ লোকের অভাব। তিনি জানান, এডিস মশা বেশি থাকে বাসার মধ্যে পরিস্কার পানিতে। মানুষের সচেতনতার অভাব, ঢাকা শহরের অপরিকল্পিত স্থাপনা, নির্মাণাধীন ভবনের সংখ্যা বাড়ার কারণেই ডেঙ্গুর প্রকোপ ঢাকায় বেড়েই চলেছে। এটা সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত চলবে বলে তিনি জানান। সামনের ঈদুল আজহার সময় বাড়তি সতর্কতা বাড়ানোর উপর জোর দেন। তিনি সাংবাদিকসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
সেমিনারের বিশেষ অতিথি জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগ ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা যাবে না। দেশের বিভিন্ন দূর্যোগে অতীতের মতো ছাত্ররা এবার ডেঙ্গু প্রতিরোধে এগিয়ে আসবে। পরিস্কার পরিছন্নতা অভিযানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের আহবান জানান। ২৫ জুলাই থেকে জেলায় পরিস্কার পরিছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পদনোন্তি প্রাপ্ত পুলিশ সুপার ) গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, সমন্বিত প্রতিনিধির মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে।
সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকর্তা ডা. খায়রুল কবির বলেন, সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ডেঙ্গু চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য , প্রফেসর ড. মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম, জাতির বিভিন্ন ক্রাইসিসের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জনগণের পাশে দাড়ায় এবারও ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা দেশবাসীর পাশে থাকবে। ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান থাকবে। সভা- সেমিনারের মাধ্যমে ডেঙ্গু বিষয়ে জনগণকে সচেতন করা হবে। আতংকিত না হয়ে আসুন সবাই সচেতন হই ।

সভায় আরো বক্তব্য দেন প্রক্টর ড. প্রীতম কুমার দাস, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. ওমর ফারুক, অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদ চৌধুরী আসিফ ও কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার পাভেল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জহুরুল ইসলাম প্রিন্স। প্রক্টর অফিস সেমিনারের আয়োজন করে।

তথ্য সূত্র : পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দপ্তর ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.